যুক্তরাষ্ট্রের সড়ক মানেই বিশালাকৃতির এসইউভি আর শক্তিশালী পিকআপ ট্রাকের আধিপত্য। দীর্ঘদিনের এ চেনা দৃশ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাপানি ধাঁচের ‘কেই কার’ নামে পরিচিত ক্ষুদ্রাকৃতির গাড়ি তৈরিতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, এ ধরনের গাড়ি হবে সাশ্রয়ী ও জ্বালানি দক্ষ। তবে বড় গাড়িতে অভ্যস্ত মার্কিনদের রুচি আর বাজারের কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড এ সমীকরণ কতটা বদলে দিতে পারবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
কেই কার মূলত জাপানি শব্দ ‘কেই-জিদোশা’র সংক্ষিপ্ত রূপ, এর অর্থ হলো হালকা যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাপানের জনাকীর্ণ শহরগুলোয় যাতায়াতের একটি সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে এ ধরনের গাড়ি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে এশিয়াজুড়েই ক্ষুদ্র গাড়ির জনপ্রিয়তা রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ বছরের পুরনো কেই কার চালানোর অনুমতি থাকলেও নতুন করে এগুলো তৈরির পথে ছিল আইনি বাধা। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সে বাধা দূর হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। তবে ক্যাপিটাল কেই কার ক্লাবের মতো শৌখিন ব্যবহারকারীরা মনে করেন, মহাসড়কে বড় ট্রাকের পাশে এ গাড়িগুলো এখনো যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।
কেই কারের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উৎপাদন খরচ। ট্রাম্প ক্ষুদ্রাকৃতির এ গাড়িগুলোকে সাশ্রয়ী হিসেবে উল্লেখ করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। অটোমোবাইল খাতের বিনিয়োগকারী স্টিভ গ্রিনফিল্ডের মতে, মার্কিন নিরাপত্তা আইন মেনে এ গাড়িগুলো নতুন করে ডিজাইন করতে গেলে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এতে গাড়ির দাম আর সাশ্রয়ী থাকবে না, যা মূলত এ ধরনের গাড়ির প্রধান বাণিজ্যিক বৈশিষ্ট্যকেই নষ্ট করে দেবে।
এদিকে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন হুন্দাই চেয়ারম্যান চুং ইউ-সান। তিনি জানিয়েছেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও বাণিজ্য উত্তেজনা চলতি বছর গাড়ি শিল্পে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কক্স অটোমোটিভ জানিয়েছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন গাড়ি বিক্রি ১ কোটি ৬০ লাখ ইউনিটের নিচে নেমে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে টয়োটা বা মিৎসুবিশির মতো বড় কোম্পানিগুলো এখনো কেই কার নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানায়নি।
২০১৯ সালে কম চাহিদার কারণে ‘স্মার্ট’ ব্র্যান্ডটি মার্কিন বাজার ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর ট্রাম্পের এ উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষুদ্র যানের বৈপ্লবিক কোনো পরিবর্তন আনবে নাকি এটি কেবল শৌখিন গ্রাহকদের একটি ‘নিশ’ (শৌখিন বা নির্দিষ্ট গ্রাহক) বাজার হিসেবেই রয়ে যাবে, তা এখন ভোক্তা ও খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে বড় প্রশ্ন। খবর বিবিসি